Requirements not met
Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.
Browser unsupported
Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:
Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.
Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.
If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.
Language / ভাষা:
দেশের খবর
**বাংলাদেশে সংঘাত-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নেই টেকসই বিকল্প—প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব**
- Details
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ আজ একটি গভীর সংঘাত-পরবর্তী শাসন সংকটে দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এমনকি পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া এখন আর তাত্ত্বিক অনুশীলন নয়, বরং রাজনৈতিক প্রয়োজন।
সংঘাত-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ কার্যত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভিন্ন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বৈধতা ও আস্থার সংকট দূর করতে পারেনি। রক্তাক্ত রাজনৈতিক সংঘাত—গৃহপালিত অস্থিরতা, দমন-পীড়ন কিংবা আধা-গৃহযুদ্ধের পর—যে তিনটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ সাধারণত দেখা দেয়, বাংলাদেশ আজ তার সবকটির মুখোমুখি:
এক, গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনরুদ্ধার;
দুই, প্রতিশোধ ও ‘জয়ী-সব-নেয়’ রাজনীতির চক্র রোধ;
তিন, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠন।
কোন ধরনের সরকার বা শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তা নির্ভর করে কয়েকটি নির্ধারক বিষয়ের ওপর—সেনাবাহিনীর ভূমিকা, রাজনৈতিক দলগুলোর সক্ষমতা, নাগরিক সমাজের শক্তি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অতীত রূপান্তরের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামনে একটি বিরল সুযোগ এসেছিল। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারত। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপরই আস্থা রেখেছিল।
এই আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। জনগণ প্রত্যাশা করেছিল যে বাহিনীটি তার পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। বাস্তবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা পুনর্গঠন, নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান সাফল্য আসেনি। বরং সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী মডেল প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী সংস্কৃতি পুনরুত্পাদনের লক্ষণই স্পষ্ট হয়েছে।
যেকোনো সাংবিধানিক রাষ্ট্রে সশস্ত্র বাহিনী একদিকে যেমন বিপুল ক্ষমতার অধিকারী, অন্যদিকে তেমনি সমান দায়িত্বের বাহক। রাজনৈতিক সংকটকালে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করে দেয়—একটি রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক পথে স্থিতিশীল হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মতো গভীরভাবে মেরুকৃত সমাজে প্রশ্নটি তাই আর তাত্ত্বিক নয়: সশস্ত্র বাহিনী কি হস্তক্ষেপ করবে, কোনো পক্ষের সঙ্গে সারিবদ্ধ হবে, নাকি কঠোরভাবে পেশাদার থাকবে?
সংবিধান, তুলনামূলক অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস একটি সুস্পষ্ট উত্তর দেয়—আপোষহীন পেশাদারিত্বের সঙ্গে যুক্ত কঠোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাই একমাত্র টেকসই পথ।
সামরিক নিরপেক্ষতা নিষ্ক্রিয়তা নয়; এটি একটি সক্রিয়, সাংবিধানিক ও আইনসম্মত অবস্থান। নিরপেক্ষ থাকা মানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং সংবিধান, রাষ্ট্র এবং নাগরিকের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করা নয়; বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধানের মর্যাদা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত সমাজে সেনাবাহিনীকে “স্থিতিশীলতার রক্ষক” হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা থাকলেও ইতিহাস দেখায়—সামরিক মধ্যস্থতা কখনোই গণতান্ত্রিক সংকটের টেকসই সমাধান নয়। এমনকি জনপ্রিয় হস্তক্ষেপও দীর্ঘমেয়াদে বেসামরিক শাসন দুর্বল করে এবং সেনাবাহিনীকে একটি অনানুষ্ঠানিক ‘guardian authority’-তে পরিণত করে।
বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে যে সামরিক সম্পৃক্ততা কখনোই টেকসই সাংবিধানিক শৃঙ্খলা আনেনি। বরং তা গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ, বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা এবং বৈধতার সংকট বাড়িয়েছে। তথাকথিত “স্থিতিশীল হস্তক্ষেপ” তত্ত্ব তাই আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ।
অতএব, বাংলাদেশের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো—সশস্ত্র বাহিনীর প্রশ্নাতীত প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা, বেসামরিক কর্তৃত্বের স্পষ্ট পুনর্ব্যক্তকরণ এবং আদালত, সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন যদি তা সত্যিকার অর্থে সাংবিধানিক পদক্ষেপ হয়.
সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপে নয়, বরং সংবিধানের সীমার মধ্যে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করার মধ্যেই নিহিত।
বাংলাদেশে সামরিক-সমর্থিত শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ঘাটতি একটি কাঠামোগত বাস্তবতা। এ ধরনের ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তিগুলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিবর্তে প্রায়শই একটি সাংবিধানিক বহির্ভূত রেফারির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা গণতান্ত্রিক শাসনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সশস্ত্র বাহিনী যদি কোনো পক্ষের সঙ্গে—এমনকি পরোক্ষভাবেও—সম্পৃক্ত বলে প্রতীয়মান হয়, তবে তা জনআস্থাকে আরও ক্ষুণ্ন করবে, রাজনৈতিক প্রতিরোধকে তীব্র করবে এবং সংকটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আরোপিত স্থিতিশীলতা স্বভাবতই অস্থায়ী; বিপরীতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত বৈধতাই টেকসই।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য একমাত্র কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প হলো—
সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা
বেসামরিক কর্তৃত্বের অধীনতার স্পষ্ট ও প্রকাশ্য পুনর্ব্যক্তকরণ
সামরিক কমান্ড কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিভাজন
আদালত, নির্বাচন কমিশন ও সংসদের মতো আইনসম্মত বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন
সামরিক প্রতীক, ভাষা কিংবা উপস্থিতির যেকোনো রাজনৈতিক ব্যবহারে শূন্য সহনশীলতা
সশস্ত্র বাহিনীকে কেবল তাদের সাংবিধানিক ও বৈধ ভূমিকাতেই দৃশ্যমান থাকা উচিত—জাতীয় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা। রাজনৈতিক অভিনেতা বা ক্ষমতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
উপসংহার: সংযমই প্রকৃত শক্তি
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতায় নয়, বরং সেই প্রভাব বিস্তার থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকার ক্ষমতায় নিহিত। নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দুর্বলতার লক্ষণ নয়; এগুলো একটি রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক পরিপক্কতার প্রকাশ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—রাজনৈতিক সংঘাতের সময় সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকলে জাতি ভেঙে পড়ে না; বরং সেনাবাহিনী যখন কোনো পক্ষ বেছে নেয়, তখনই রাষ্ট্র কাঠামো ভঙ্গুর হয়ে ওঠে।
লেখক: দেলোয়ার জাহিদ, স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মুক্তিযোদ্ধা, সভাপতি, বাংলাদেশ নর্থ আমেরিকান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক, এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা
ভারতীয় কূটনৈতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: সংকট, বাস্তবতা ও বৈদেশিক নীতিতে একটি কঠিন সিদ্ধান্তের নাম
- Details
ভারতীয় কূটনৈতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: সংকট, বাস্তবতা ও বৈদেশিক নীতিতে একটি কঠিন সিদ্ধান্তের নাম
দেলোয়ার জাহিদ
কোনো দেশ থেকে কূটনৈতিকদের পরিবার প্রত্যাহার সাধারণত শান্ত ও পরিকল্পিত কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং তা প্রায়ই চরম অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতার মধ্যেই সংঘটিত হয়। শেষ মুহূর্তের ফ্লাইট, হামলার আশঙ্কায় থাকা কনভয়, সীমিত সময়ের মধ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা—এসবই এমন উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দূতাবাসের কর্মী ও তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য—যাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে বিদেশে বসবাস করেছেন—এ ধরনের সিদ্ধান্ত মানে একটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রার আকস্মিক বিচ্ছিন্নতা, তীব্র মানসিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা।
তবুও বাস্তবতা হলো, আধুনিক পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের উচ্ছেদ একটি অপরিহার্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিহাস হঠাৎ করে যখন বিপজ্জনক মোড় নেয়, তখন কূটনীতিকদের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলো যেন কোনোভাবেই ক্ষতির মুখে না পড়ে—এটি নিশ্চিত করাই এসব সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: ভারতের সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত
নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে নেওয়া এই পদক্ষেপকে সরকারি সূত্রগুলো “সতর্কতামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা যায়, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করা হয়নি; বরং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কার্যক্রম চালু রেখেই পরিবারগুলোর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। (ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি ২০২৬)
কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা ও সংকটের বাস্তবতা
প্রচলিত কূটনৈতিক ব্যবস্থায় একটি দেশের দূতাবাস ও মিশনের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন কোনো আয়োজক দেশের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ে—যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ কিংবা আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে—তখন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবার সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারগুলোকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়—স্বাভাবিক কূটনৈতিক জীবন থেকে সরে এসে ‘সংকট ব্যবস্থাপনা মোডে’ প্রবেশ করতে হয়। পরিবার প্রত্যাহার সেই বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইতিহাসের দৃষ্টান্ত: ইয়েমেন ও সুদান
২০১৫ — ইয়েমেন: হুথি অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
গত এক দশকের শুরুতে ইয়েমেনি গৃহযুদ্ধ ছিল কূটনৈতিক উচ্ছেদের এক বড় উদাহরণ। হুথি বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে একাধিক কূটনৈতিক মিশন কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ও মিত্র বাহিনী এডেন থেকে কূটনীতিক ও জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়। পাকিস্তান বিশেষ বিমানের মাধ্যমে নাগরিক ও বিদেশি কর্মীদের উদ্ধার করে।
ভারত শুরু করে অপারেশন রাহাত—যার মাধ্যমে আকাশ ও সমুদ্রপথে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিক এবং শত শত বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণে উঠে আসে বিশৃঙ্খল বন্দরের চিত্র, সমুদ্রে অপেক্ষমাণ জাহাজ, এবং বিমান হামলার মধ্যেই নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে ক্লান্ত কূটনীতিকদের নিরলস প্রচেষ্টা। স্থানীয় প্রশাসনের অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়—সংকটের মুহূর্তে কূটনৈতিক নিয়মকানুন কত দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।
২০২৩ — সুদান: ‘অপারেশন রাউস আউস খার্তুম’
দশকের অন্যতম নাটকীয় উচ্ছেদ ঘটে ২০২৩ সালে সুদানে। জাতীয় সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের সংঘর্ষ খার্তুমকে নগর যুদ্ধে পরিণত করে।
২২–২৫ এপ্রিল: তীব্র লড়াই সরবরাহ রুট বন্ধ করে দেয় এবং বিদেশি মিশনগুলোকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে।
২৩ এপ্রিল: পশ্চিমা দেশগুলো কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারদের জন্য আসন্ন বিপদের কথা উল্লেখ করে জরুরি উচ্ছেদ পরিকল্পনা কার্যকর করে।
জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়ে, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বহু দেশ যৌথ ও পৃথকভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও সমন্বিত প্রচেষ্টায় দূতাবাসের কর্মী ও পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়।
এসব উদাহরণ কী নির্দেশ করে
ইয়েমেন (২০১৫), সুদান (২০২৩), মধ্যপ্রাচ্য (২০২৫) এবং বাংলাদেশ (২০২৬)—এই ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংঘটিত উচ্ছেদগুলো কয়েকটি মৌলিক সত্য স্পষ্ট করে:
কূটনীতি মূলত মানবিক: মানুষের জীবন রক্ষা প্রায় সব বৈদেশিক নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকে।
নিরাপত্তাই নীতিনির্ধারক: পরিবার প্রত্যাহার প্রায়ই দূতাবাস বন্ধ বা কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেয়।
লজিস্টিক সক্ষমতার পরীক্ষা: চাপের মধ্যে বিমান, সামরিক সহায়তা ও স্থানীয় অনুমতি দ্রুত সমন্বয় করা রাষ্ট্রের প্রস্তুতির মানদণ্ড।
যোগাযোগ হয়ে ওঠে জীবনরেখা: সংকটকালে দূতাবাস নাগরিক ও পরিবারের জন্য কার্যত একটি জরুরি সহায়তা কেন্দ্রে রূপ নেয়।
সামনে তাকিয়ে: কূটনৈতিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ
আঞ্চলিক যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হাইব্রিড হুমকির যুগে রাষ্ট্রগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আগাম প্রস্তুতিতে। পূর্ব-নির্ধারিত উচ্ছেদ চুক্তি, যৌথ বহুজাতিক উদ্ধার ব্যবস্থা, এবং রিয়েল-টাইম নিরাপত্তা নজরদারি এখন কূটনৈতিক নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দূতাবাসগুলোর জন্য নিয়মিত সিমুলেশন অনুশীলনও বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
বিশ্ব রাজনীতির সংকটগুলো যখন সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিচ্ছে, তখন এসব উচ্ছেদের গল্প আমাদের একটি মৌলিক সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়—কূটনীতি শুধু সম্মেলন কক্ষে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অনেক সময় ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে বাস্তব মানুষ ও পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠিন সিদ্ধান্তের নাম।
লেখক: দেলোয়ার জাহিদ, স্বাধীন রাজনীতি বিশ্লেষক, মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ নর্থ আমেরিকান জূর্নালিস্ট নেটওয়ার্ক এর সভাপতি (এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা)
সৈকতের বালিয়াড়ি আর মানুষ মিলেমিশে একাকার কক্সবাজার
- Details
কক্সবাজার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শহরের লাবণি পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। শুক্রবার বিকালে এ এলাকায় দেখা গেছে, পর্যটকের স্রোত। যেখানে সৈকতের বালিয়াড়ি আর মানুষ মিলেমিশে একাকার। মানুষে ভরপুর কক্সবাজার সৈকতে ঠিক কত পর্যটক রয়েছে তার সংখ্যা বলা মুশকিল।
সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানান, এই দৃশ্যটি শুধু বিকালের না। সকাল থেকে টানা জনস্রোতে মুখরিত রয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের-এ বিস্তীর্ণ এলাকা।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা
- Details
ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
তারেক রহমান আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৪ মিনিটের দিকে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন এবং জাতির বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাত ১০টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, কেন্দ্রীয় কমিটির সহপরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেল থেকেই সাভার ও আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।
এ সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এর আগে নিয়মানুযায়ী সূর্যাস্তের আগে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। সে কারণে বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে তারেক রহমানের পক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি নেতারা।
Subcategories
- Additional Resources:
- Additional Resources:
- Agro-Ocean
- Asian News and Views
- Bangabandhu Development and Research Institute
- Bangladesh North American Journalists Network
- Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA)
- Coastal 19
- Delwar Jahid's Biography
- Diverse Edmonton
- Dr. Anwar Zahid
- Edmonton Oaths
- Mahinur Jahid Memorial Foundation (MJMF)
- Motherlanguage Day in Canada
- Samajkantha News
- Step to Humanity Bangladesh






