Requirements not met
Your browser does not meet the minimum requirements of this website. Though you can continue browsing, some features may not be available to you.
Browser unsupported
Please note that our site has been optimized for a modern browser environment. You are using »an unsupported or outdated software«. We recommend that you perform a free upgrade to any of the following alternatives:
Using a browser that does not meet the minimum requirements for this site will likely cause portions of the site not to function properly.
Your browser either has JavaScript turned off or does not support JavaScript.
If you are unsure how to enable JavaScript in your browser, please visit wikiHow's »How to Turn on Javascript in Internet Browsers«.
Language / ভাষা:
মুক্ত আলোচনা
রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস: নাগরিক চার্টার নাকি “বাংলাদেশ সনদ” — একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা ও বাংলাদেশের জন্য একটি প্রস্তাবনা
- Details
“বাংলাদেশ সনদ” এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে নাকি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নির্ভর করছে জনসমর্থন, গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার ওপর।
অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার অভাব
রাষ্ট্রের মৌলিক নীতির বিষয়ে নতুন কোনো সনদ তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা, বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। কিন্তু “বাংলাদেশ সনদ” উদ্যোগে এখন পর্যন্ত সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি সত্যিই একটি জাতীয় উদ্যোগ, নাকি সীমিত গোষ্ঠীর একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ?
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম ঐতিহাসিক বাস্তবতা
সনদের উদ্যোক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন—এতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ভিত্তির স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই নতুন রাষ্ট্রচিন্তার সূচনা হয়, তবে ঐতিহাসিক ভিত্তিকে উপেক্ষা করার যৌক্তিকতা কোথায়—এই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। এতে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন সনদ বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা নতুন নয়। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় “বাংলাদেশ সনদ” উদ্যোগকেও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক শক্তি সংগঠনের ভিত্তি হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক রাজনৈতিক উদ্যোগ।
নাগরিক চার্টার: উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা
রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নাগরিক চার্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি নাগরিক অধিকার, সরকারি সেবার মানদণ্ড এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে নাগরিক চার্টার কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ।
কানাডা: অধিকার ও বহুসংস্কৃতির মডেল
কানাডার Canadian Charter of Rights and Freedoms (1982) নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ধর্মীয় স্বাধীনতা
আইনের সমতা
ভাষাগত অধিকার
বহুসংস্কৃতি নীতি
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার
কানাডার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেবা প্রদানের নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করে নাগরিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
যুক্তরাষ্ট্র: স্বাধীনতা ও ক্ষমতার সীমা
যুক্তরাষ্ট্রের Bill of Rights নাগরিক স্বাধীনতার ভিত্তি।
মূল বৈশিষ্ট্য:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা
ধর্মীয় স্বাধীনতা
ন্যায্য বিচার
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে সরকার কী করতে পারবে না—এটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া: সেবা ও জবাবদিহিতার মডেল
অস্ট্রেলিয়ায় Client Service Charter নাগরিক সেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
সেবা প্রদানের সময়সীমা
অভিযোগ ব্যবস্থাপনা
জবাবদিহিতা
সেবা মান উন্নয়ন
অস্ট্রেলিয়া নাগরিক সেবাকে “Customer-focused government” হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিষয় কানাডা যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া
ভিত্তি সাংবিধানিক অধিকার সাংবিধানিক স্বাধীনতা প্রশাসনিক সেবা
নাগরিক অধিকার শক্তিশালী অত্যন্ত শক্তিশালী কার্যকর
জবাবদিহিতা শক্তিশালী আইনি ভিত্তিক প্রশাসনিক ভিত্তিক
সেবা মান উন্নত বিকেন্দ্রীকৃত অত্যন্ত উন্নত
বাংলাদেশের জন্য নাগরিক চার্টার: একটি প্রস্তাবনা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর সুশাসন এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। তাই বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর নাগরিক চার্টার প্রণয়ন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের নাগরিক চার্টারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
প্রস্তাবিত নাগরিক চার্টারের মূলনীতি
১. সংবিধানের চার মূলনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা
২. মানবাধিকার সুরক্ষা
৩. আইনের শাসন নিশ্চিত করা
৪. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
৫. স্বাধীন বিচার বিভাগ
৬. নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা
৭. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
৮. প্রশাসনিক জবাবদিহিতা
৯. নাগরিক সেবা সময়সীমা নির্ধারণ
১০. দুর্নীতি অভিযোগ ব্যবস্থা
বাস্তবায়ন কাঠামো
জাতীয় সংলাপ
নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ
রাজনৈতিক ঐকমত্য
আইনগত কাঠামো
স্বাধীন তদারকি কমিশন
উপসংহার
একটি কার্যকর নাগরিক চার্টার শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিল নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি বাস্তব কাঠামো। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়—সফল নাগরিক চার্টারের জন্য প্রয়োজন:
সাংবিধানিক ভিত্তি
প্রশাসনিক দক্ষতা
নাগরিক অংশগ্রহণ
রাজনৈতিক ঐকমত্য
বাংলাদেশে যদি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক চার্টার প্রণয়ন করা যায়, তবে তা নতুন রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
সাংবাদিকতা পেশা কতিপয় ব্যক্তির কারণে বিতর্কিত: তথ্যমন্ত্রী
- Details
Barisal, March 22, 2026 (BSS): Information and Broadcasting Minister Zahir Uddin Swapan has said that although journalism is a noble profession, it is becoming controversial due to the activities of some individuals.
He said that just as top-level figures in the state, including the Prime Minister, must be held accountable, media workers must also be held accountable.
He made this statement while speaking as the chief guest at the Eid reunion meeting organized by the Agailjhara Press Club in Barisal on Sunday.
At that time, the Minister of Information and Broadcasting also said, "If there is any argument or controversy about the identity of those who identify themselves as journalists in Agailjhar, the journalists themselves will decide. There is no need for us to decide."
He also said, "We don't need to see who is a junior journalist, who is a senior journalist, who is educated, who is not. Because we are readers."
Zahir Uddin Swapan said, "Those who will lead the press club will form a team and determine this. We will look carefully at whomever you say is good, and we will consider the matter of those who are accused of blackmailing in the name of journalism accordingly."
At that time, the minister also said that no one gets rich easily in professions like journalism. Such professions need to be supported. Because it is a work of talent, it is not a work of physical labor that is like 'I have the strength in my body, so I did it'.
"It takes a certain kind of talent and ability," he said. "But if they can't get rid of their identity crisis, then the state and society become embarrassed."
The minister further said that a great profession like journalism has become very controversial because of a few people. Many people are embarrassed and ashamed to introduce themselves as journalists. Then I console them by saying that I am a politician, yet sometimes I am ashamed to introduce myself. Because in politics too, many things are not worth introducing. As a result, journalists are careful, politicians are also careful. Especially, after August 5, politicians have realized it.
He said, "Now we need to create a process to identify those who commit 'disinformation', so that honest journalists can survive and no one can blackmail them. Fortunately, since I have relationships with everyone, I want to keep journalism in a respectable position with their advice."
Zahir Uddin Swapan further said, "I hope that it will be possible to bring the great profession of journalism into a respectable framework very soon. For this, the three parties - newspaper owners, journalists and the government - will determine the process through a meeting."
At the initiative of the Agailjhara Press Club of Barisal, under the leadership of the Press Club General Secretary FM Nazmul Ripon and the chairmanship of the Press Club President Md. Shamimul Islam Shamim, the following spoke at the Eid reunion meeting: General Secretary of Bangladesh Crime Reporters Association MM Badshah, Upazila Executive Officer Likhon Banik, Upazila BNP Acting Convener Sikder Hafizul Islam, Member Secretary Molla Bashir Ahmed Panna, former President of Agailjhara Press Club Sardar Harun Rana, Md. Saiful Islam, Vice President Md. Masum Howlader, among others.
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দলের যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান রাষ্ট্রপতি’র
- Details
সংসদ ভবন, ১২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) জাতির কাছে দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়-এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাঁর ভাষণে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন।
জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সকল কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয় চলছে।
নবগঠিত সরকারের সামনে বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি ও বিরোধী দলগুলো ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুতার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই গৌরবময় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সকল সংসদ সদস্য (এমপি) কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রজাতন্ত্রের নিবেদিতপ্রাণ জনসেবকদের সহ যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অংশগ্রহণ, সেই সাথে বাংলাদেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসাহী অংশগ্রহণ সমানভাবে প্রশংসনীয়, কারণ তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল ও স্থায়ী উদাহরণ স্থাপন করেছে।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতার শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহিদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল অবিসংবাদিত নেতা এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অসামান্য নেতৃত্বের জন্য তিনবার নির্বাচিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে একটি ফ্যাসিবাদ-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সকলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, হাজার হাজার শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, মামলার জট কমাতে, ন্যায়বিচার প্রদানে হয়রানি দূর করতে, দুর্নীতি প্রতিরোধে বিচারিক পরিষেবা আধুনিকীকরণ, বিচারিক নিয়োগের জন্য আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগীয় কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করছে, তাই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে কঠোর অবস্থানে গ্রহণ করে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব হুমকি সম্পূর্ণরূপে দমন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন-‘সবার আগে বাংলাদেশ।’ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং অভিবাসন কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে। রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, ব্যবসা ও বাণিজ্য, ব্যাংকিং, প্রশাসন, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে যথাযথ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়, বর্তমানে দেশে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা এবং স্নাতক (পাস) স্তর এবং সমমানের পর্যন্ত উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু রয়েছে। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায়েও অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একটি অস্থিতিশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিট্যান্সসহ বেশ কয়েকটি সূচক ইতিবাচক প্রবণতা দেখাতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধিও হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪৯ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে, মাথাপিছু জাতীয় আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সরকার আশা করছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপির তুলনায় রাজস্বের অনুপাত কম থাকার কারণে অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মুদ্রাস্ফীতি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৯.৯৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগামী মাসগুলিতে মুদ্রাস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, তিনি বলেন।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গত বছর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ছিল ৪৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি ৮.৬০ শতাংশ বেড়ে ৪৮.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৬.৮৩ শতাংশ বেড়ে ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং বিনিময় হার ছিল প্রতি মার্কিন ডলারে ১২২.৩০ টাকা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে, সুদের হার যৌক্তিক করতে এবং জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এই লক্ষ্যে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা, তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করা হবে। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ খেলাপি ঋণ সমস্যা পর্যালোচনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মূলধন বাজার সংস্কারের জন্য একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে এবং গত পনেরো বছরে পুঁজিবাজারে অনিয়ম তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পথচলা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
- Details
ঢাকা — আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হওয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্বাগত জানালেও, সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ড. ইউনূসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক বর্ণালীর সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা কিংবা পূর্বে বিতর্কিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করা হলে নির্বাচনী পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক আস্থার পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে বিবেচনা করেনি। এ ছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের (OHCHR) এক ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন বলে অনুমান করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, এসব মৃত্যুর প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হলেও সেই প্রক্রিয়া যেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হয় এবং প্রতিশোধমূলক রাজনীতির ধারাবাহিকতা সৃষ্টি না করে। এতে সংগঠনের স্বাধীনতা এবং সমষ্টিগত নয়, ব্যক্তিগত অপরাধ দায়—এই দুই মৌলিক মানবাধিকার নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ কার্যক্রম স্থগিত করা মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব ব্যক্তি গুরুতর অপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই সঙ্গত।
চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার অথবা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রয়েছে এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করার, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং জনগণের কণ্ঠ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
চিঠির শেষাংশে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশটির গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
- Additional Resources:
- Additional Resources:
- Agro-Ocean
- Asian News and Views
- Bangabandhu Development and Research Institute
- Bangladesh North American Journalists Network
- Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA)
- Coastal 19
- Delwar Jahid's Biography
- Diverse Edmonton
- Dr. Anwar Zahid
- Edmonton Oaths
- Mahinur Jahid Memorial Foundation (MJMF)
- Motherlanguage Day in Canada
- Samajkantha News
- Step to Humanity Bangladesh






